সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

amin porobashi লেবেল থাকা পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

বৃষ্টিস্নাত শব্দেরা

শিরোনাম -  বৃষ্টিস্নাত শব্দেরা বৃষ্টিস্নাত শব্দেরা কবি - আমিন পরবাসী কাল রাতের নির্জনে এক পশলা বৃষ্টি এসেছিলো, নীল অন্ধকার ঘরে, বিনা অনুমতিতেই- ধুয়ে দিয়ে গেছে ধুলোপড়া শব্দগুলোকে। বৃষ্টির মৃদু গুঞ্জনে প্রতিটি শব্দ পেয়েছে স্বচ্ছতা, এতটাই স্বচ্ছ যে, অনায়াসে স্পষ্ট হয়ে উঠেছিলো- পশ্চাতে দাঁড়ানো হিজল তলার ভোর, নোনাধরা নীল পোশাকে পরাধীনতার সুর। কত না মধুরতায় চতুর বিকালের স্রোত বয়ে যায়, যুগলের তত্ত্ব কথায় মৃত্তিকা আবার প্রাণ ফিরে পায়। হঠাৎ করেই শব্দগুলো নড়ে উঠে, ঘরময় শুরু হয় তাদের ছুটোছুটি, মুক্তির দাবিতে প্রকম্পিত করে ঘরের প্রতিটি স্তম্ভ। আমি অনিমেষে তাকিয়ে ছিলাম কিছুক্ষণ- নির্বাক হয়ে "ভালবাসা" নামক শব্দটির দিকে। পেলব কন্ঠে বলেছিলাম, "আমি তো তোকে ভালবেসে তোর ধুলোমাখা শরীর নিয়ে বেঁচে ছিলাম, আজ তুই ও কি মুক্তি চাস?" উৎকর্ণ হয়ে শুনেছিলো আমার অস্পষ্ট ব্যাক্যগুলো, অতঃপর চিৎকার করে বলে উঠে, "কাপুরুষের ভালবাসা! আদৌ কি পেরেছিলে ভালবেসে- আমাকে গুঁজে দিতে কোনো একটি কবিতার ক্ষুদ্র চরনে?"  কমেন্ট করতে ভুলবেন না কিন্তু ! নিচে দেখুন কমেন্ট বক্স

জীবনান্বেষণ

জীবনান্বেষণ শিরোনাম  -    জীবনান্বেষণ কবি - আমিন পরবাসী কখনো কখনো কেউ ব্যাকুল হয়ে উঠে অনামক জীবনের খুঁজে, অথবা নিরাকার আলিঙ্গনে নিতে স্বার্থকতার স্বাদ চোখ বুঁজে। দেখি সুনির্দিষ্টতার শেকল পরে পঞ্চালিকার সকাতর নিস্তরঙ্গতা, উজ্জ্বল বার্নিশে ঢেকে ব্যর্থতা, অনামুখে নিজের সাথেই শঠতা। বর্ণচোরার রুপবাহুল্যে বিভোর হয়ে উঠে নিজেকে বিলাতে, স্বপ্নকারের ধূর্ত নয়নে চায় যে অন্তর্বাহী সুখ চৈত্রের খরাতে। অনুগ্রহের জলস্নানে চায় পুণ্যতার স্বীকৃতি, করে না সমর্পণ- অপ্রতিম চাহনীতে, বইতে চায় না কোনো উপেক্ষার ভারার্পণ। অশিথিল উৎসুক নয়নে প্রতি মুহূর্তে পারমানবিক বিস্ফোরণ, তবুও খুঁজে জীবন, অরন্যে রোদন, অতঃপর আঁধারে আস্তরণ। মা'য়ের শাসনবৃত্তে যখন বন্দী ছিলো কৈশোরের তুখোড়তা, বাবার সুতীক্ষ্ণ দৃষ্টি যখন বয়ে এনেছিলো সাময়িক জড়তা, মনে পড়ে সেদিন বলেছিলাম, জীবন তুমি কি ভবঘুরে হয়ে- কাটানো পথিকের প্রতিবিম্ব? মলিন মুখে ঝরো উচ্ছ্বাস হয়ে? নাকি কোনো পাঠকের শেষ অধ্যায়? অপূর্ণতার দীর্ঘশ্বাস? জবাব দেয়নি, তাই করিনা অধ্রুব জীবনে সংস্কারে বিশ্বাস। নিরবতার বিদ্রুপে ঘর্মাক্ত শরীর, উর্ধ্বগতিতে সময়ের রথ, এখন শুধুই চ...

উদীক্ষণ

উদীক্ষণ শিরোনাম   উদীক্ষণ কবি ;  আমিন পরবাসী ক্ষণজন্মা আজ তুমি অগ্নিজলে ডুববে, জানি- পুড়বে তুমি, সাথে পোড়াবে জরাহীন আর্জুনি। ঝরা পাতার স্তুপটি জ্বলবে দাউ-দাউ করে, পোষা নক্ষত্ররা পালিয়ে যাবে বিকট চিৎকারে। কেউ আসবেনা নিকষ আঁধারে জঞ্জাল পেরিয়ে- অগ্নিজলে করবেনা সন্তরণ উদ্ধত বুকে জড়িয়ে। প্রভাতের সঙ্কুচিত দৃষ্টিতে ঝরবে বিদ্রুপের লাভা, ঊর্ধদৃষ্টিতে নিজেই নিজেকে হারাবে, বিলুপ্ত শোভা। পালাচ্ছে তোমার সকল চন্দ্রধর, বৈরী জ্যোৎস্নায়- বলেছিলো যারা আঁকবে তোমার মুখ পদ্মঈষীকায়। কালো ধোয়ায় আচ্ছাদিত নির্মুক্ত নীল আকাশ, প্রকম্পিত ধরণী! কি খুঁজছো? যন্ত্রণার নিকাশ? ভয় পেয়োনা, আসছি, অগ্নিগর্ভেই বুকে জড়াবো। পরিপুষ্ট বক্ষে পুষিত আগুনে আগুন পোড়াব।  কমেন্ট করতে ভুলবেন না কিন্তু ! নিচে দেখুন কমেন্ট বক্স

গ্রীষ্ম থেকে বসন্ত কাটে তোমার অপেক্ষায়

শিরোনাম   গ্রীষ্ম থেকে বসন্ত কাটে তোমার অপেক্ষায় গ্রীষ্ম থেকে বসন্ত কাটে তোমার অপেক্ষায় কবি ;  আমিন পরবাসী সময়ের স্রোতের ভেলায় আধখেঁচড়া বছরের শেষ সূর্যটিও অস্তে যাচ্ছে অনাবৃষ্টির যাতনে । ড্যাবরা চোখে তাকিয়ে গিলছি ব্যাঙ্গমীর দুর্বাক্য। তোমার ক্রোধানলে ছোঁড়া শেষ প্রতিজ্ঞাবাণে আজ বুঝি ধুঁলোয় লুটোতেই হবে চিরন্তনে। দিগন্তরেখা ছোঁয়ার মত বিস্ময়কর প্রত্যাশায় লালিত - কোনো এক ঋতুতে তোমার প্রত্যাগমনের উন্মাদ স্বপ্ন, কালবৈশাখের মেঘাচ্ছন্ন আকাশ, সাথে ঝড়ের তান্ডব জীবনাশঙ্কা ভুলে অনিমেষে দেখেছি তোমার চলে যাওয়া। ছন্দে-বন্দে গ্রীষ্ম কাটিয়েছি অক্ষুব্ধ চিত্তে, অস্পন্দিত হৃদয়ের উপাসনা ছিলো বর্ষার তরে, খরতাপের যন্ত্রণায় অভিমান ভুলে তুমি আসবে কদম্ব তলে হৃদয় ভেজাবে আষাঢ়ের জলে, ঝিরিঝিরি বৃষ্টির সুরের ঝংকারে মুছে যাবে যত নির্লিপ্ততা। শরৎ-এর মেঘহীন জাজ্বল্য-মান নগ্ন ক্যানভাসে অশ্রু রঙে এঁকে ছিলাম চন্দ্রামুখির পুষ্পাহাসি। শ্যাওলা আবৃত বুক ছেঁদ করে বালি-হাঁসের ডানায় চঁড়ে, ভেবেছিলাম তুমি আসবে কাশফুল হাতে কিংবা হাসনাহেনা। অপার্থিব শূন্যতার ক্লেশে শরৎ মুখ লুকায় হেমন্তের চাঁদরে। ন...

আজ আমি শান্ত হবো

শিরোনাম :   আজ আমি শান্ত হবো  আজ আমি শান্ত হবো  কবি ; আমিন পরবাসী    আজ আমি শান্ত হব , মাঝে রাতে খুলে দিব বন্ধ কপাট , লাজুক মরুভূমির প্রাঙ্গনে জ্বালাব নিভু স্নিগ্ধ আলো। বাঘনখের আঁচড়ে বৃক্ষের ছাল উঁপড়ে আজ শান্ত হবো , ষোড়শী পুকুরের ফুটন্ত জলস্নানে আজ আমি মুগ্ধ হবো। গূঢ় রহস্যে অন্তরিত দৃষ্টিতে আজ আমি হুঁল ফোটাবো , সদ্য ফোটা গোলাপের সুভাস মেখে আজ হবো পবিত্র। কমলার কোঁয়া থেকে রক্ত শুষে আজ আমি শান্ত হবো , অবশী - ভূত গুঞ্জনে আজ সৃষ্টি হবে সুখের কাল বৈশাখী। নব উদ্ভূত উঁচু দু ' পাহাড়ের চাপে আজ আমি পিষ্ট হবো , স্হূল গিরিনিতম্বের ফোয়ারায় আজ আমি ভেসে যাব। গ্রাম থেকে গ্রামান্তর ঘুরে , খুঁজে নিব জলন্ত নাভিকুণ্ড , হাতে অঙ্গারধানীর মুখ ঢেকে আজ আমি শান্ত হবো। ধুপকাঠির তীব্রগন্ধে আজ বিশুদ্ধ হবে আবেশী বাতাস , নিড়ানীতে শস্যেক্ষেতের জঞ্জাল সড়িয়ে আজ শান্ত হবো। মুঠোবন্দী কেশে   ছুঁচালো লৌহবাণে আজ রক্তাক্ত হবে , কুমারী নদীতে কম্পমান নৌকা বয়ে যাব বৈঠা হাতে। ভু - কম্পনের ঘূর্ণিতে আজ তলিয়ে যাব গভীর তলদেশে , ঊষর মৃত্তিকায় ফসলের সুপ্তবীজ বুনে আজ শান্ত হবো।...