সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

ভাবনা

কবিতা: ভাবনা সঞ্জয় দাস তুমি আসবে বলে, এই জীবনের সমস্ত অপেক্ষা আমার; তা শুধু একান্তই আমার। এই পৃথিবীর সব ক'টা বসন্ত জড়ো করে,  কৃষ্ণচূড়া ফুল ফুলদানিতে সাজিয়ে রেখেছি; তুমি আসবে বলে অপেক্ষা কেবল শুধুই আমার। ঐ আকাশ রঙের শাড়ি আর খোঁপায়  দুধ - সাদা রঙের শিউলি পড়ে, লাল টুকটুকে সূর্যটাকে দেখে; মিষ্টি মৃদু হাসি মেখে তুমি আসবে। জানি তুমি আসবে, তুমি আসবে, অপেক্ষা কেবল শুধুই আমার।  সৌরজগতের জীর্ণতাকে শূন্য করে, "এক স্বর্গ ভুবন" ভালোবাসায় পূর্ণ করে,  আমাকে নিবেদন করবে প্রেম। হবে আমারই অপেক্ষার অবসান। তুমি আসবে নাকি আমার সমস্ত ভাবনা শুধুই ভাবনা থেকে যাবে? কেবলই অপেক্ষা অপেক্ষায় রয়ে যাবে? শিরোনাম কমেন্ট করতে ভুলবেন না কিন্তু ! নিচে দেখুন কমেন্ট বক্স

নির্মল ভালবাসা

শিরোনাম : নির্মল ভালবাসা                      --- হেমন্ত রড্রিক্স  সমুদ্রের অতল গহ্বরে  শেওঁলা গুলো দিনে দিনে বৃদ্ধি পায়,  বুঝে উঠা হয়নি কখন মনের গভীরে বেসামাল ভালবাসা তেমনই দানা বাঁধলো ?  কেরোসিন পিদিম মিটি মিটি আলো দেয় মৃদু মলয় পরশে সে যেন আহ্লাদিত। তোমার মুখাবয়ব আলো আধারে  সে এক ভিন্ন জগত সৃষ্টিতে নিমগ্ন ।  মেঘের গর্জে ওঠাকে ভয় পেওনা  দ্যুতিময় ঘর্ষণের পরক্ষণেই বর্ষিত ধারা । শীতল বায়ু বহে সমান্তরাল । ধুয়ে মুছে শুভ্র সুশীল ধরাতল।  দীনতা, অসৌন্দর্য ক্ষণস্থায়ী দৃশ্যতই  সত্যি প্রেমের গভীরতা অপরিমেয় । বিশ্বাস, সমঝোতা যার মজবুত খুঁটি ।  মরণোত্তর তাজমহল নয়, জীবদ্দশায় হাতে হাত রেখে চলার  অঙ্গীকারই "নির্মল ভালবাসা"।  (সেপ্টেম্বর তিরিশ  সিনসিনিটী  বিমান বন্দর ওহাইও, আমেরিকা  - সকাল নয়টা ।) ( কমেন্ট করতে ভুলবেন না কিন্তু ! নিচে দেখুন কমেন্ট বক্স)

সুখ

শিরোনাম: সুখ  কবি: কাজী জুবেরী মোস্তাক  জীবনে সবাই সুখের সন্ধানে ছুটে বেড়ায় হয়তোবা এভাবেই ভালো থাকা যায় ; সুখ সেতো আমাদের আশেপাশেই থাকে  শুধুমাত্র একটু খুঁজলেই পাবে তাকে । কখনো কোন এক শিশুর মুখে হাসি ফুটাও কখনো ক্ষুধার্তের মুখে খাবার দাও ; যদি সময় পাও তবে সময় কাটাও বৃদ্ধাশ্রমে  দেখবে তুমি সুখটা তোমার প্রতি দমে ।  কমেন্ট করতে ভুলবেন না কিন্তু ! নিচে দেখুন কমেন্ট বক্স

কবি বিকাশ দাসের এক গুচ্ছ কবিতা সিঁড়ী এবং অন্যান্ন

আঠাশটি এনভেলাপ

শিরোনাম  আঠাশটি এনভেলাপ ক্ষ্ণণে ক্ষণে মরে যাই মরছি ইশপিশে বিগত চোদ্দটা বছর, আঠাশটি সজারু ব্যথায়। এক এক করে ভেঙ্গে চলেছি আমার-তোমাকে, ভাঙ্গছি তুমি, এক চুমো ক্ষরণে, রক্ত কোলাহলে ধস্ত সফেদ কার্পাস বিবর্ণ দর্পণে অনুকারী হ্যালোজেন প্রতিচ্ছবি, লুকোচুরি খেলে অস্পৃশ্য ভালবাসাতে । ফিলিপ মরিসের কড়া তামাকে ধোঁয়ায়, জাবর কাটে ক্লিষ্টতায় বীভৎস স্মৃতি, ফোস্কা পরা ধূসর ছাই জমিয়ে রাখি, আঠাশটি স্বাদহীন বাদামি এনভেলাপে। by রায়হান সাকিব  কমেন্ট করতে ভুলবেন না কিন্তু ! নিচে দেখুন কমেন্ট বক্স

মৃত্যু

শিরোনাম  মৃত্যু  বিকাশ দাস মৃত্যু মারা যায় না কারোর ডাকে রাকাড়ে না । মৃত্যু আতঙ্ক ভয় জ্বর শূন্য মৃত্যু অহঙ্কারবোধ একলা মৃত্যু অঙ্ক অদৃষ্টের ধারধারে না । কারোর দুপায়ে বা দুহাত ধরে বলে না আমার জীবন ফিরিয়ে দাও। মৃত্যু যুদ্ধ শেষকুল অবশেষে বলে না আমার জীবন জিরিয়ে দাও। মৃত্যু মনিব শরীরের শরিক মৃত্যু ভবিষ্যত ভাগ্যের ধারধারে না । মৃত্যু রোগ মৃত্যু ভোগ জেগে থাকার শর্ত ধাপ্পার ধার ধারে না । মৃত্যু বিদায় মৃত্যুর চোখে নিশ্চুপ কান্নার অল্প ঘুম । মৃত্যু প্রেম মৃত্যু বিষ অসুস্থতার আরোগ্য সুস্থ ঘুম । মৃত্যু আঘাত মৃত্যু বিশ্রাম হাড়ের নিশ্চিন্ত মগ্ন ঘুম । মৃত্যু ইচ্ছে বেঁচে থাকা শরীরের ফাঁকজুড়ে অনন্ত ঘুম । মৃত্যু ছাই মৃত্যু যায় মৃত্যু আসি মৃত্যুর ঠোঁটে মৃত্যুর একলা বাঁশি ।  কমেন্ট করতে ভুলবেন না কিন্তু ! নিচে দেখুন কমেন্ট বক্স

খড়কুটো – দুই

খড়কুটো – দুই শিরোনাম - খড়কুটো – দুই বিকাশ দাস মাথার উপর আকাশ তার চেয়ে বেশি প্রয়োজন ঘরলগ্ন মাটি দেহ জুড়ানো দু'দন্ড শান্তি নামিয়ে ব্যক্তিগত বোঝার দায় পায়ের নিচে । মাথার উপর ঈশ্বর তার চেয়ে বেশি প্রয়োজন শ্রমলগ্ন হাত পেট জুড়ানো দু' মুঠো ভাত সারিয়ে রক্তজলের উৎস সময়ের উদ্ভিদে । মাথার উপর ঐশ্বর্য তার চেয়ে বেশি প্রয়োজন দেহলগ্ন বৃষ্টি ঢেঁকি জুড়ানো দু'ধামা ধান মাখিয়ে আপন্ন অধিকার সংঘাতের ঘামে । (মুম্বাই)    কমেন্ট করতে ভুলবেন না কিন্তু ! নিচে দেখুন কমেন্ট বক্স

চল পাগলী পালাই

শিরোনাম : চল পাগলী পালাই  কবিঃ        শ্যামল  সোম বাঁশিওয়ালা হেমন্তে গহীন অরণ্যে পিঁউ কাঁহা পাখি ডাকে সুন্দরবনে চলরে পাগলী আজ শীতার্ত রাতেই আজ রাতেই চল পাগলী পালাই আর কত কাল এ নিঃসঙ্গ কাটাই। জাত বয়স ধর্ম বিস্ফারিত স্বদেশ পরবাসে দুজনে দুজনার  প্রবাসে পরস্পরের  থেকে বিছিন্ন প্রয়াসে। সামাজিক কঠোর শাস্তির খড়্গ এ সালিশী সভায় কোন বক্তব্য না শুনেই গণ প্রহার গাছে বেঁধে প্রেমিকের ক্রোধ প্রেমিকাকে গণধর্ষণ, কিসের প্রতিশোধ প্রতিদিনই প্রতিনিয়ত লাঞ্ছিত গ্লানিময় মানবিকতার বিরুদ্ধেই অমানুষদের নিত্য    প্রতিরোধ  অহংকারের হুংকার  আস্ফালন আধুনিক এই শহরের যান্ত্রিক যাপিত জীবন। প্রতিবেশীর নিঃসহায় নিপীড়িত নিঃসঙ্গ স্পৃহা হীন উদাসীন স্বার্থপর  আত্মীয় স্বজন  এ তো জীবনের প্রহসন, মুক্তির আস্বাদন নিজস্ব  আমাদের পরমাণু শক্তির কোপনলে  ধ্বংসের  আগেই চলরে পাগলী সেই গহিন অরণ্যে  হিমালয়ের গুহায় প্রস্তর যুগে ফিরে আরণ্যক জীবন যাপন করতেই চলরে এবার পাগলী পালাই, এতো আমাদের স্বাধিকার লড়াই। চল য...

জলের দহন

শিরোনাম:      জলের দহন কবিঃ              ব্রজকুমার সরকার সেদিন দুপুরে আমরা জলের কাছে গেছি, দেখেছি জলের শরীর, তীব্র রোদে পুড়ে যাচ্ছে জল, আমরাও পুড়ছি তেমনি। সারাদিন ঘুরেছি আমরা দু’জন এই জীর্ণ শহরের অলি গলি; অবশেষে এই প্রান্তভুমে পৌছে দেখি দিগন্ত বিস্তৃত জলের বিস্তার ! তোমাকে কিভাবে ছুঁয়ে দেখবো, কতটা গভীরে লুকিয়ে রেখেছো ফাগুনের ক্ষত- এই ভেবে এসেছি আমরা জলের কিনারে। তুমি অবলীলা ক্রমে নেমে গেছো জলে, পারে বসে আমি দেখছি জলের দহন, রৌদ্র তাপে গলে যাচ্ছে আকাশের নীল... কাঁপছে তোমার প্রতিবিম্ব , ভেঙ্গে যাচ্ছে ভেসে যাচ্ছে দূরে , বেজে যাচ্ছে শীতকার ধ্বনি ! অস্তরাগে পুড়ে যাচ্ছে আমার সমগ্র... জলের দহন কমেন্ট করতে ভুলবেন না কিন্তু ! নিচে দেখুন কমেন্ট বক্স

আমি একটুখানি দাঁড়াব

শিরোনাম : আমি একটুখানি দাঁড়াব        > সৈয়দ শামসুল হক < আমি একটুখানি দাঁড়াব আমি একটুখানি দাঁড়াব এবং দাঁড়িয়ে চলে যাব; শুধু একটু থেমেই আমি আবার এগিয়ে যাব; না, আমি থেকে যেতে আসিনি; এ আমার গন্তব্য নয়; আমি এই একটুখানি দাঁড়িয়েই এখান থেকে চলে যাব। আমি চলে যাব তোমাদের এই শহরের ভেতর দিয়ে খুব তাড়াতাড়ি এর মার্চপাস্টের যে সমীকরণ এবং এর হেলিকপ্টারের যে চংক্রমণ, তার তল দিয়ে তড়িঘড়ি; আমি চলে যাব তোমাদের কমার্সিয়াল ব্লকগুলোর জানালা থেকে অনবরত যে বমন সেই টিকার-টেপের নিচ দিয়ে এক্ষুনি; আমি চলে যাব তোমাদের কম্পিউটারগুলোর ভেতরে যে বায়ো-ডাটার সংরক্ষণ তার পলকহীন চোখ এড়িয়ে অবিলম্বে; আমি চলে যাব যেমন আমি যাচ্ছিলাম আমার গন্তব্যের দিকে ধীরে ধীরে বহুকাল ধরে আমি একটি দু’টি তিনটি প্রজন্ম ধরে। আমি কথা দিচ্ছি তোমাদের কোনো রমণীকে আমি চুম্বন করব না; আমি কথা দিচ্ছি তোমাদের কোনো সন্তানকে আমি কোলে করব না; এবং কথা দিচ্ছি তোমাদের এপার্টমেন্টের জন্যে আমি দরখাস্ত করব না, তোমাদের ব্যাংক থেকে আমি ঋণ গ্রহণ করব না, তোমাদের শা...

কামুক

কবিঃ  মোকসেদুল ইসলাম ‘কামুক’ শব্দটি অনেকের কাছেই অশ্লীল শোনায় অথচ এটিই আদিম ক্রীড়ার আমন্ত্রণ অগ্নিগর্ভ যৌবনের সময় তুলে আনে কাব্যিক ব্যঞ্জন। আমাদের শামুকস্বভাব নয় যে চিরকাল গুটিয়ে থাকি রাত গভীর হলেই জ্যামিতিক বোধের খেয়ালে আমরা সবাই কামুক হয়ে উঠি অথচ সবাই জানে আমরা সত্য বলতে প্রচন্ড ভয় পাই।   শিরোনাম কমেন্ট করতে ভুলবেন না কিন্তু ! নিচে দেখুন কমেন্ট বক্স

ভালবেসে সখা

শিরোনামঃ ভালবেসে সখা            পারভেজ সাজ্জাদ   ভালবেসে সখা   চাই না পুরোটা নীল আকাশ ,পারো কি দিতে, তোমার আকাশে ঠাই , কথা দেয়া,কথা নেয়া,চাই না ওসব , শুধু বলি হাত বাড়ালেই যেন পাই , চাইনা সহায় ,তোমার কাছে, মুঠো মুঠো সুখ , পারো যদি ভাগ করে নিও, আমার কিছু দুখ । সখা ভালোবাসা এমনই হয় , ভালোবাসা এমনই হয়   । কিছু কথা বলবো আমি ,কিছুটা শুনব তোমার , কথায় কথায় হবে গান ,হবে রাত্রি ভোঁর, কত কথা তবু জমা রয়ে যাবে , শুধু দুজনার ।। সখা ভালোবাসা এমনই হয় , ভালোবাসা এমনই হয়   । নাহয় জাললেনা প্রদীপ আমার জন্যে, তোমার কবিতায় আধার মুছে এনে দিও রুপালী চাঁদ,   আমার দক্ষিণ জানালায় । দিওনা সাত মণিহার,দামী উপহার   ,উৎসবে নাই বা গেলে নিয়ে, কাঁদতে দিও নীরব আলিঙ্গনে ,তোমার বুকে , আদরের আস্কারায় । সখা ভালোবাসা এমনই হয় , ভালোবাসা এমনই হয়   ।   কমেন্ট করতে ভুলবেন না কিন্তু ! নিচে দেখুন কমেন্ট বক্স

তোকে নিয়ে… এলোমেলো

শিরোনাম - তোকে নিয়ে… এলোমেলো তোকে নিয়ে… এলোমেলো – হাবীব কাশফি নিঃসঙ্গতার সাথে সখ্য গড়েছিলাম ভালোই, তারপর… চোখে মোটা গ্লাসের চশমা রুক্ষ চুলের লুকোচুরি আর তার বন্য হাসির উচ্ছলতা, ভেবেছিলাম তোকে নিয়ে লিখবো কবিতা, এলোমেলো বন্য কবিতা। আগুনঝরা ফাগুনে ঝাপসা চোখে বাসন্তি শাড়ি জড়িয়ে খুজেছিলি আমাকে হাজারো ভীড়ের মাঝে, রঙ্গিন বৈশাখের তপ্ত রৌদ্দুরের নিঃস্বঙ্গতায় হারিয়ে ফেলেছি তোকে হাজারো রঙের ভীড়ে, ভেবেছিলাম তোকে নিয়ে লিখবো আরো একটি কবিতা এলোমেলো রঙ্গিন কবিতা। তোর আঙ্গুলের ফাঁকে আঙ্গুল জড়িয়ে ইচ্ছে ছিলো কাটাবো কতো অলস দুপুর, তুই চেয়েরবি আমার চোখে মোটা গ্লাসের চশমার ফাকে, ভেবেছিলাম তোকে নিয়ে লিখবো একটি কবিতা এলোমেলো অলস দুপুরের কবিতা। একটি বর্ষা পেরিয়ে যায় অঝোর বর্ষনে বিষন্নতার চাদর হয়ে, শরতের স্নিগ্ধ বিকেলে হাটবো কি দুজন আবারো একই ধারে? অচেনা পথের ধুলো মাড়িয়ে আঙ্গুলের ফাকে আঙ্গুল জড়িয়ে, সেই মোটা গ্লাসের চশমা চোখে পাড় হবে কতো শত গোধূলী বেলা। ভেবেছিলাম তোকে নিয়ে লিখবো গোধুলি মাখা একটি কবিতা, শত শত কবিতা এলোমেলো কবিতা কিছু তুচ্ছ কবি...

হৃদয়ের ঋণ – হেলাল হাফিজ

শিরোনাম : হৃদয়ের ঋণ আমার জীবন ভালোবাসাহীন গেলে কলঙ্ক হবে কলঙ্ক হবে তোর, হৃদয়ের ঋণ খুব সামান্য হৃদয়ের ঋণ পেলে বেদনাকে নিয়ে সচ্ছলতার ঘর বাঁধবো নিমেষে। শর্তবিহীন হাত গচ্ছিত রেখে লাজুক দু’হাতে আমি কাটাবো উজাড় যুগলবন্দী হাত অযুত স্বপ্নে। শুনেছি জীবন দামী, একবার আসে, তাকে ভালোবেসে যদি অমার্জনীয় অপরাধ হয় হোক, ইতিহাস দেবে অমরতা নিরবধি আয় মেয়ে গড়ি চারু আনন্দলোক। দেখবো দেখাবো পরস্পরকে খুলে যতো সুখ আর দুঃখের সব দাগ, আয় না পাষাণী একবার পথ ভুলে পরীক্ষা হোক কার কতো অনুরাগ।                       – হেলাল হাফিজ কমেন্ট করতে ভুলবেন না কিন্তু ! নিচে দেখুন কমেন্ট বক্স

প্যারিসের চিঠি

প্যারিসের চিঠি শিরোনাম  : প্যারিসের চিঠি   লতিফুল ইসলাম শিবলী প্রিয় আকাশি, গতকাল ঠিক দুপুরে তোমার চিঠি পয়েছি। খামের উপর নাম ঠিকানা পড়েই চিনতে পেরেছি তোমার হাতের লেখা; ঠিকানা পেলে কিভাবে লেখনি; কতদিন পর ঢাকার চিঠি; তাও তোমার লেখা, ভাবতে পারো আমার অবস্থা?? গতকাল প্যারিসে ঝরেছিলো এ বছরের রেকর্ড ভাঙ্গা তুষারপাত। তামাক ফুরিয়ে গেছে আনতে পারিনি; এই প্রথম আমি অনেকটা সময় নিয়ে ভুলেছিলাম তামাকের গন্ধ। তোমার চিঠিতে পরিবর্তন আর বদলে যাওয়ার সংবাদ; তুমি কষ্ট পেয়ে লিখেছো - রাত্রির ঢাকা এখন নিয়নের স্নিগধতা ছেড়ে নিয়েছে উতকট সোডিয়ামের সজ্জা, আমাদের প্রিয় রমনা রেস্তোরা এখন কালের সাক্ষী, শীতের বইমেলা পরিণত হয়েছে মিনাবাজারে, টি এস সি'র চত্বরে যেন উপ্তপ্ত বৈরুত। বদলে যাওয়া কষ্টের অপর নাম স্বৃতি এখন তাই নিয়ে বুঝি মেতে আছো; এই পরবাসে আমার চোখের সামনেও বদলে যেতে দেখলাম কত সুদুর ইতিহাস- বালির বাধের মতন ভেসে গেল বার্লিন প্রাচীর ... ইংলিস চ্যানেলের তল দিয়ে হুইসেল বাজিয়ে চলছে ট্রেন; ইউরোপের মানচিত্র এখন রুটি হয়ে গেছে, ক্ষিদে পেলেই ছিড়ে ছিড়ে খাও, স্বাধীনতা মানেই যেন উদর পুর্তি...

মনে থাকবে?

শিরোনাম : মনে থাকবে?   আরণ্যক বসু মনে থাকবে? পরের জন্মে বয়স যখন ষোলোই সঠিক আমরা তখন প্রেমে পড়বো মনে থাকবে? বুকের মধ্যে মস্ত বড় ছাদ থাকবে শীতলপাটি বিছিয়ে দেব; সন্ধে হলে বসবো দু'জন। একটা দুটো খসবে তারা হঠাৎ তোমার চোখের পাতায় তারার চোখের জল গড়াবে, কান্ত কবির গান গাইবে তখন আমি চুপটি ক'রে দু'চোখ ভ'রে থাকবো চেয়ে... মনে থাকবে? এই জন্মের দূরত্বটা পরের জন্মে চুকিয়ে দেব এই জন্মের চুলের গন্ধ পরের জন্মে থাকে যেন এই জন্মের মাতাল চাওয়া পরের জন্মে থাকে যেন মনে থাকবে? আমি হবো উড়নচন্ডি এবং খানিক উস্কোখুস্কো এই জন্মের পারিপাট্য সবার আগে ঘুচিয়ে দেব তুমি কাঁদলে গভীর সুখে এক নিমেষে সবটুকু জল শুষে নেব মনে থাকবে? পরের জন্মে কবি হবো তোমায় নিয়ে হাজারখানেক গান বাঁধবো। তোমার অমন ওষ্ঠ নিয়ে, নাকছাবি আর নূপুর নিয়ে গান বানিয়ে__ মেলায় মেলায় বাউল হয়ে ঘুরে বেড়াবো... মনে থাকবে? আর যা কিছু হই বা না হই পরের জন্মে তিতাস হবো দোল মঞ্চের আবীর হবো শিউলিতলার দুর্বো হবো শরৎকালের আকাশ দেখার__ অনন্তনীল সকাল হবো; এসব কিছু হই বা না হই তোমার প্রথম প...

চলৎ চলৎ

চলৎ চলৎ চলৎ চলৎ আজিম আকাশ চলৎ চলৎ চরণ তব চপলা যখন চন্দ্রালোকে ভরে মন ঐ রূপ দর্শন; দুরু দুরু করে মন শুধু আনচান মিটে না পিয়াস তবুও কিছুতেই শত দর্শনে ঐ অনিন্দ্য চাঁদবদন। চাতক পাখির মত সুদূরে দৃষ্টি রয় তোমার চলন যেন স্মৃতির শ্মশাণ; যেন তোমার চরণ ধূলি হৃদয়ের  কাঙ্খিত কোন চাতাল উঠান। চক্রবত পৃথিবীর মেঠো পথ বাঁকে বেশামাল লাগে তোমার ঠমক; চলনে তোমার কি যে কারুকাজ  বিমোহিত আঁখিতে ইন্দ্রজালের  মত লাগে অজানা-অচেনা চমক। চন্দ্রাংশ, চন্দ্রতাপ, কত চাঁদোয়া  তোমার চরণে খায় লুটোপুটি; যেন আলতা রাঙ্গা দু’টি চরণ চিরকাল আঁধারকে পেরিয়ে কেবলই আলোর পথে ছুটোছুটি। তোমার ক্লান্তিহীন ছুটে চলা  মোর হৃদয়কে করে স্বপ্নাক্রান্ত; চেয়ে দেখ একবার পিছু ফিরে কতটা ব্যাকুল হয়ে অধীর চিত্তে তব প্রেমের তৃষায় কতটা ক্লান্ত। টঙ্গিবাড়ি, মুন্সীগঞ্জ

স্পর্শ দিয়ে যা

স্পর্শ দিয়ে যা ঋষি স্পর্শ দিয়ে যা মন আমি জানি তুই আসবি ফিরে বারংবার হাজারো রুপে আমার কবিতায় শ্রাবন হয়ে। আমি জানি তোকে ,সেই মেয়েটাকে যার ঠোঁটের পাশে তিলটা রুপোলি দরগা ঈশ্বরে অনুরাগ। সেই ফেলে আসা বিকেলের ফাঁকা বাসস্ট্যান্ড বেশ এতটুকু আর কি। . জীবন প্রবাহে অসংখ্য অজানায় যারা ঝরা পাতা তারা ঝরে পরে নোনতা চোখে। চোখ পুড়ে যায় লাল সূর্যের দেশে ঠোঁট পুড়ে যায় অজানা নিরুদ্দেশে। চেনা স্বাদ ,চেনা বিশ্বাস ,হাজার আশ্বাস আমার কবিতার মন আমার কবিতারা তোকে চেনে মৃত্যুর মত , আর আমি তোকে চিনি জীবনের মত। . মন আমি জানি তোকে ফিরতেই হবে আমার শহরের প্রতি নিঃশ্বাসে অটুটু বিশ্বাস। হয়তো দুর্বলতা চেনা কফি সপে আমি জানি তোকে ,সেই মেয়েটাকে। যার প্রতি দৃপ্ত পদচরণ আমার বুকের মাটিতে একলা পলি আমি আর কি বলি আয় জীবন আয় রে স্পর্শ দিয়ে যা।

নতুন দিন

নতুন দিন নতুন দিন   ঋষি  আলসেমিতে শীত শুয়ে সুখের বারান্দায় স্কেলিটনে প্রেম  শুয়ে স্বস্তির আকাঙ্খায় , বসন্ত আকাশে পাখি আজীবন গান গায় সে আসছে ,সে আসবে বলে তাই , জীবিত এই কল্পনায় খোলা দরজায়। সীমিত কিছু ইচ্ছা ঝুরি উবুর করে রাখে আজকের ঋতুরঙ্গে  আজীবন। বদলায় সময় ঘড়ির কাঁটায় তিরচে তীর এঁকে বেঁকে যায়। বুলসায় ,বুলসায় জীবিত প্রকৃতি ঋতুর অপেক্ষায় , সে আসছে ,সে আসবে আবারও তাই। খোলা বারান্দায় এখান থেকে আকাশ দেখা যায় আজকের নীল কাল মুখভার ,বদলায়। তবু বাঁচে প্রকৃতি অপেক্ষায় রোজ ,রোজকার দিনযাপন ,প্রলোভন , কালকের দিনটা নতুন তাই।